বৃহস্পতিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৪ ১৪২৬   ১৯ মুহররম ১৪৪১

দলীয় মনোনয়ন নিয়ে ‘বিপাকে’ বিএনপি

আজকের নড়াইল

প্রকাশিত : ০২:২২ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০১৮ সোমবার

ঢাকা–৮ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব–উন–নবী খান সোহেল। এই দুই নেতাই নির্বাচন করার সিদ্ধান্তে অনড়। এতে এই আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে হিমশিম খাচ্ছে বিএনপি। দলীয় সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।


২০০৮ সালে আসন পুনর্বিন্যাস করে রমনা-মতিঝিল ও পল্টন থানা নিয়ে ঢাকা–৮ আসন গঠন করা হয়। এর আগে এই আসনটি ঢাকা–৯–এর সঙ্গে ছিল। এই আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৬৪ হাজার ৮৯৩।


১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে অবিভক্ত ঢাকা–৯ থেকে নির্বাচন করেছিলেন মির্জা আব্বাস। এর মধ্যে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে তিনি জয়লাভ করেন। আর ১৯৯৬ সালে জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগের সাবের হোসেন চৌধুরী। সর্বশেষ আসনবিন্যাস হওয়ার পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে মির্জা আব্বাস অংশ নেননি। তখন এই আসন থেকে নির্বাচন করেন হাবিব–উন–নবী খান।


বিএনপির একটি সূত্র জানায়, ২০০৮ সালে সোহেলকে ঢাকা–৮ থেকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই আব্বাস ও সোহেলের সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরে। সেই সম্পর্কে এখনো জোড়া লাগেনি। সংকটকালীন সোহেলকে এই আসন থেকে নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়া হলেও এবারও তিনি এখান থেকেই নির্বাচন করতে চান। অবশ্য ২০০১ সালে তিনি রংপুর সদর থেকে নির্বাচন করেছিলেন।


সোহেল বর্তমানে কারাগারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির নির্বাহী কমিটির এক নেতা বলেন, ‘কারাগার থেকে সোহেল ভাই বলে দিয়েছেন তিনি ঢাকা–৮ এর বাইরে অন্য কোথাও নির্বাচন করবেন না। তিনি বলছেন, দুঃসময়ে দল তাঁকে কাজে লাগিয়েছে। এখন তাঁর প্রত্যাশিত আসনে মনোনয়ন দিতে হবে।’


দলীয় সূত্র জানায়, মির্জা আব্বাসও এই আসন থেকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্তে অনড়। আর ঢাকা-৯ থেকে মির্জা আব্বাস তাঁর স্ত্রী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসকে দলীয় প্রার্থী করতে চান। তবে ঢাকা–৮ থেকেও আফরোজা আব্বাসের নামে দলীয় মনোনয়র ফরম নেওয়া হয়েছে।


২০০৮ সালের নির্বাচনে মির্জা আব্বাস অংশ নেননি। তখন এই আসন থেকে নির্বাচন করেন হাবিব–উন–নবী খান।

কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সোহেল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপিরও সভাপতি। দলীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নগরের দায়িত্ব পালন করলেও সোহেল নগর বিএনপির নেতাদের তেমন কাউকে তাঁর সঙ্গে নিতে পারেননি। তিনি রাজনীতি করছেন মূলত সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে। নির্বাচন করার জন্য তিনি একটি আসনে পর্যাপ্তসংখ্যক অনুসারী তৈরি করতে পারেননি। অন্যদিকে মির্জা আব্বাস এখন নগরের দায়িত্বে না থাকলেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করার কারণে তাঁর অনুগত কর্মীর সংখ্যাই বেশি।


বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের পছন্দের আসনকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে মির্জা আব্বাসকে ঢাকা–৮ আসন দেওয়া হলে সোহেলের আসন নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। কারণ, ঢাকা–৯ আসন থেকে আফরোজা আব্বাসকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়েও মির্জা আব্বাস ছাড় দিতে রাজি নন। এ ক্ষেত্রে ঢাকার অন্য কোনো আসনে সোহেলকে দেওয়া হলেও ওই আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন কি না, এবং কারাবন্দী সোহেলের পক্ষে নির্বাচন পরিচালনা করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়েও শঙ্কা আছে।


মির্জা আব্বাসের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘ঢাকা–৮ আসন থেকে নির্বাচন করার জন্য আব্বাস ভাই সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। তিনি এই আসন থেকেই নির্বাচন করবেন। আর ভাবি (আফরোজা আব্বাস) ঢাকা–৯ থেকে নির্বাচন করবেন।’