রোববার   ২০ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৫ ১৪২৬   ২০ সফর ১৪৪১

১০৭

হারিয়ে গেলে মহাকাশচারীর কী হয়?

প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারি ২০১৯  

আমরা প্রতিনিয়ত মহাকাশের বিভিন্ন তথ্য জানতে খুব আগ্রহী হয়ে থাকি। মহাকাশ নিয়ে আমাদের জল্পনা কল্পনারও শেষ নেই। তবে আপনারা কী কখনো ভেবে দেখেছেন যে, কোনো মহাকাশচারী যদি মহাকাশে হারিয়ে যায় তাহলে কী হবে? ডেইলি বাংলাদেশের আজকের আয়োজনে থাকছে এ নিয়ে প্রতিবেদন।

 

মহাশূন্য নিয়ে প্রতিনিয়ত বহু মহাকাশচারী রিসার্চ করছে। কিন্তু এরকম বড় এবং অন্ধকার জায়গায় হারিয়ে যাওয়া সামান্য ব্যাপার নয়। এটা এমনি একটা ভাবনা যেটা ভেবে সাধারণ মানুষ ভয় পেয়ে যায়। কিন্তু প্রশ্নটা হলো এই ব্যাপারটা শুনলেই আমরা কেন ভয় পেয়ে যাই। তো চলুন জেনে নেই যদি কোন মহাকাশচারী যদি মহাকাশে হারিয়ে যায় তাহলে কী হবে?

পৃথিবীর সব থেকে বড় স্পেস এজেন্সি নাসা এবং অন্য কোন স্পেস এজেন্সি এর নানা রকম সেফটি প্রটোকল আছে। তারা সব সময় নজর রাখে যদি কোন মহাকাশচারী মহাশূন্যে রিসার্চ করতে বাইরে বের হয় তাহলে সেই মহাকাশচারী যেন স্পেস ক্রাফট বা স্পেস ষ্টেশনের সাথে ক্রমাগত যোগাযোগ করতে থাকে। যদি কোনো মহাকাশচারী ইন্টার ন্যাশনাল স্পেস স্টেশন থেকে কোনো কাজ করার জন্য বাইরে বের হয় তবে তাকে বাধা হয়ে থেকে ২৬ মিটার লম্বা স্টিলের বানানো একটি বস্তুর সঙ্গে যা সরাসরি স্পেস স্টেশনের সঙ্গে বাধা থাকে। এই জিনিসটির ৫০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত ওজন সহ্য করতে পারে।

যদি এই জিনিসটি কোনো কারণে ফাইল্ড হয়ে যায় বা যদি ছেড়ে যায় তখন মহাকাশচারীরা ব্যবহার করে সাফার। সাফার'র পুরো মানে হলো সিমপ্লিফাইড এইড ফোর ইভা রেস্কিউ। ইভা এর পুর নাম হল এক্সট্রা ভ্যাকিউলার এক্টিভিটি। এটি একটি ইমারজেন্সি জেট প্যাক সিস্টেম। এটা সাধারণত মহাকাশচারীদের মহাশূন্যে কন্ট্রোল করে থাকে। এতে মহাকাশচারীর রিলেক্সে মহাশূন্যে চলাচল করতে পারে। আর যদি সাফারও কাজ করা বন্ধ করে দেয় বা যে সাইন্টিস্ট ঐ মহাকাশচারীকে কন্ট্রোল করছে সে যদি অজ্ঞান হয়ে যায় বা জেট প্যাক কন্ট্রোল করা বন্ধ করে দেয় তখন একটাই রাস্তা বেঁচে থাকে, স্পেস স্টেশনের অন্যান্য মেম্বাররা একসঙ্গে হয়ে একটি রেস্কিউনেশন স্টার্ট করা। কিন্তু এর রেস্কিউনেশন এত সহজ হবে না।

এখনো এমন কোনো স্পেসক্রাফট নেই যে মহাকাশে হারিয়ে যাওয়া মহাকাশচারীকে নিয়ে আসবে। তাহলে প্রশ্ন হলো যদি স্টিলের বস্তুটি ছিড়ে যায় আর জেট প্যাক কাজ না করে আর অন্যান্য মহাকাশচারীরা যদি বাঁচাতে না পারে তাহলে সেই মহাকাশচারী আসলে কোথায় যাবে? এর উত্তর হলো ঐ স্টীলের বস্তুটি যদি ছিঁড়ে যায় তাহলে সেটি ছিঁড়ে যাওয়ার সময় যে শক্তি প্রভাব ফেলেছিল ঐ মহাকাশচারী সেই শক্তির দিকেই এগিয়ে যেতে থাকবে। এরকম সময় আপনি মহাশূন্যে কম ওজন অনুভব করবেন। এই সময় হাত পা নড়ানো বা কোনো রকম বল প্রয়োগ করলেও তা কাজ করবে না। এ সময় আপনি যেই দিকে যাচ্ছেন ঐদিকেই ক্রমাগত যেতে থাকবেন সমান গতিতে। কেননা তখন বহিরাগত কোন বাধা কাজ করবে না।

যদি আপনার পৃথিবীর আশেপাশের মুভমেন্ট থাকে তাহলে গ্যাভিটি আপনাকে পৃথিবীর দিকে নিয়ে যাবে। তখন আপনি পৃথিবীরকে চাঁদের মতন দেখতে পাবেন। কিন্তু আপনি বেশিক্ষণ তা দেখতে পাবেন না, যদি আমরা স্পেস স্যুট ঠিকঠাক না থাকে। আর যদি আপনার স্পেসস্যুট ঠিকঠাক থাকে তাহলে আপনি এভাবে আট ঘন্টা ধরে পৃথিবীর আশেপাশে ঘুরতে থাকবেন ঠিক ততক্ষন, যতক্ষণ আপনার অক্সিজেন শেষ না হয়ে যায়।

আর যদি কোন কারণে স্পেস স্যুট ড্যামেজ হয়ে যায় যখন আপনি স্প্যাসক্রাফট থেকে বাইরে বেরিয়ে ছিলেন তখন আপনার স্পেস ভ্রমণের সময় অনেক কম হয়ে যাবে এবং অক্সিজেন শেষ হয়ে গেলে আওটার স্পেস ড্রেস গজার আপনাকে ১৫ সেকেন্ডে অজ্ঞান করে দেবে। তখন আপনার রক্ত পানি হতে থাকবে। কারণ অইখানে কোন এয়ার প্রেসার থাকবে না। তখন আপনার শরীরের বয়েলিং লিকুইড আপনাকে ফুলিয়ে দিবে নরমাল শরীরের থেকে তিন গুণ বেশি। আর এসব ঘটে যাবে অল্প কিছু মিনিটের মধ্যে।

আর একটা পসিবিলিটি হতে পারে যদি আপনি সঠিক ভ্যালুসিটিতেও সঠিক অ্যাংগেলে পৃথিবীর দিকে এগিয়ে আসতে থাকেন তবুও পৃথিবীতে প্রবেশ করতে পারবেন না। কেননা আপনার নিচের দিকে নেমে আসার স্পিড এতটাই বেশি থাকবে যে আপনি আর্থের অ্যাট্মোস্ফেয়ার পার করতে পারবেন না। ঐ স্পীডে আপনার শরীর এবং অ্যাট্মোস্ফেয়ারের মধ্যে সংঘর্ষ হবে। আর তাতে আপনার শরীরে আগুন ধরে যাবে। ঠিক যে কারণে উল্কাপিণ্ড জ্বলতে জ্বলতে পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে। ঠিক এরকমই একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল ১৯৬৭ সালে। একটা সোভিয়েত স্পেসক্র্যাফট ঠিক মতো ল্যান্ডিং করতে না পারায় জলতে জ্বলতে নিচে পড়ে ধ্বংস হয়ে যায়। তাহলে বুঝতেই পারছেন যে যদি কোন মহাকাশচারী মহাকাশে হারিয়ে যায় তাহলে তার সঙ্গে ঠিক এমনটাই হবে। কিন্তু আজও কোন মহাকাশচারী মহাশূন্যে হারিয়ে যাননি। কারণ মহাকাশচারীদের সিকিউরিটি অনেক বেশি স্ট্রং করা হয়েছে।

নাসা জানিয়েছে, এরকম ঘটনা ভবিষ্যতেও হবে না। কারণ তারা এই জিনিসটা সব থেকে বেশি নজর দিয়ে থাকেন। আর তাদের সিকিউরিটি সিস্টেমের ওপর পুরো ভরসা আছে। আমরা সবাই এটাই আশা করবো যেন নাসার এই কথা যেন সত্য প্রমাণিত হয়।

আজকের নড়াইল
আজকের নড়াইল