শুক্রবার   ১৮ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৩ ১৪২৬   ১৮ সফর ১৪৪১

১৪৪

সৃষ্টির রহস্য উম্মোচন হবে ২০২৩-এ, চলছে নাসার গবেষণা!

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০১৯  

বিজ্ঞানীদের মতে, আনুমানিক ২১৩৫ সালে একটি এস্ট্রয়েড বা গ্রহাণু পৃথিবীতে আছড়ে পরতে পারে। যার নাম বেনু। এর আকার মোটামুটি ৫টি ফুটবল ফিল্ডের সমান। যদিও এর সম্ভাবনা খুবই কম তবু এটাকে হালকাভাবে নেয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ পৃথিবীর কাছাকাছি ঘুরে বেড়ানো এস্ট্রয়েটগুলো যেকোনো সময় পৃথীবিতে আছড়ে পড়তেই পারে।

এর আগেও এরকম ঘটনার সাক্ষী থেকেছে আমাদের পৃথিবী। আর তাই এই ধরনের এস্ট্রয়েডগুলোর উপর নজর রাখার জন্য নাসার একটি আলাদা বিভাগ আছে। যার নাম প্লানেটারি ডিফেন্স কো অরডিনারি অফিস। এর কাজ হল পৃথিবীর কাছে ঘুরে বেড়ানোর এস্ট্রয়েডগুলোর ওপর নজর রাখা আর প্রয়োজন হলে সেটাকে ধ্বংস করে দেয়া। যদিও সো এস্ট্রয়েটের ওপর নজর রাখা সম্ভব নয় আর তাই শুধুমাত্র আকারে বড় এস্ট্রয়েটগুলোকেই নাসা পর্যবেক্ষণে রেখেছে। কারণ আমাদের সৌরজগতের সৃষ্টির সময় থেকেই কোটি কোটি এস্ট্রয়েড তৈরি হয়ে মহাকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে।

যেগুলো একেকটি একেক রকম মেটেরিয়াল দ্বারা গঠিত। যেমন অলিভিন, পাইরক্সিন, ধাতু, সালফাইড, মাটি ইত্যাদি। এই এস্ট্রয়েটগুলোর আকার কয়েক'শ কিলোমিটার থেকে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। গ্রহগুলোর মতো এস্ট্রয়েডও উপবৃত্তাকার কক্ষপথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। সাধারনত এরা বৃহস্পতি ও মঙ্গল গ্রহের মাঝে এস্ট্রয়েট বেল্টে অবস্থান করে। তা সত্ত্বেও যেহেতু এদের কক্ষ পথ অস্থির প্রকিতির তাই কখনো কখনো এরা পৃথিবীর দিকে ছুটে চলে আসে। এভাবে কোন এস্ট্রয়েট যদি পৃথিবীর কক্ষপথের ২৮ মাইল বা ৪৫ কিলোমিটার কাছাকাছি চলে আসে তাহলে নাসার প্লানিটারি ডিফেন্স কো-অর্ডিনেশন অফিস এদেরকে এনইএ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করে। যার পুরো নাম নেয়ার আর্থ এস্ট্রয়েট।

১৯৮০ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৮ হাজার নেয়ার আর্থ এস্ট্রয়েট আবিষ্কার করা হয়েছে। এভাবে কাছে আসতে আসতে যখন অন্তত ৪৬০ ফুট বা ১৪০ মিটার বড় এস্ত্রয়েটগুলো পৃথিবীর কক্ষপথের আট কিলোমিটার এর কাছাকাছি চলে আসে তখন তাদের ফোটেনি হাজারডাস এস্ট্রয়েট বলা হয়। আর এগুলো হলো সেসব স্পেস অব্জেক্ট যেগুলো আমাদের চিন্তার কারণ। এই ধরনের একটি এস্ট্রয়েট হলো বেনু। বেনুর ওপরে আলদা করে নজর রাখা হয়েছে কারণ এটি প্রতি ছয় বছরে পৃথিবীর খুব কাছে চলে আসে। ১৬৪০ ফুট বা ৫০০ মিটার সাইজের এস্ট্রয়েট বেনু টাইটানিক জাহাজের থেকেও বড়। এটি যদি পৃথিবীতে আছড়ে পরে তাহলে তার বিধ্বংসী ক্ষমতাভাবে ৮০০০০ হিরোশিমায় ফেলা বোমার সমান।

এইসব জেনে এখনি ঘাবড়ে যাবেন না। কারণ আমি আগেও বলেছি এরকম হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। কিন্তু যদি সত্যি বেনুর পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার মত অবস্থা তৈরি হয় তাহলে তার মোকাবিলা করার জন্য নাসার কাছে প্ল্যান তৈরি আছে। আর তাই বেনুকে আরো ভালভাবে জানার জন্য নাসা ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর একটি মহাকাশযান বেনুর উদ্দেশ্যে পাঠায়। যেটি গত ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে দু'বছর পর বেনুতে পৌঁছে গেছে। যার নাম ওসাইরিস রেক্স। যার কাজ হলো বেনুর আকারের একটি ম্যাপ তৈরি করা এবং সেখান থেকে স্যাম্পেল সংগ্রহ করে পৃথিবীতে আনা। সেটি আনুমানিক ২০৩০ সালে পৃথিবীতে ফিরে আসবে।

বেনু কার্বন দ্বারা গঠিত একটা এস্ট্রয়েট। আর কার্বন যেহেতু কোটি কোটি বছর অপরিবর্তিত থাকে তাই বিজ্ঞানীরা অনুমাণ করেছেন যে বেনুর মধ্যে আমাদের সৌরজগৎ সৃষ্টি সংক্রান্ত তথ্য সুরক্ষিত থাকতে পারে। আর বিজ্ঞানীরা এটাও দেখতে চায় যে এতে জীবনের কোন অস্তিত আছে কি না। কারণ অনুমান করা হয় এরকমই কোনো এক এস্ট্রয়েট পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার ফলে কোটি কোটি বছর আগে পৃথিবীতে জীবনের শুরু হয়েছিল। অসাইরিস যান প্রথমে পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে বেরিয়ে নিজের কক্ষপথে সূর্যের চারদিকে একবার পাক খায়। তারপর পৃথিবীর গ্যাভিটিকে কাজে লাগিয়ে বেনুর কক্ষপথে ঢুঁকে পড়ে। কারণ বেনু পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে ৬ ডিগ্রী এঙ্গেলে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে। আর তাই ওসাইরিসের বেনুতে পৌছাতে দুই বছর সময় লেগেছে।

বেনুতে পৌঁছানোর পর এখন দেড় বছর পড়ে অসাইরিস রেক্স বেনুর চারিদিকে অরবিট করবে এবং সেই সঙ্গে এর একটি ম্যাপ তৈরি করবে। আর অ্যামিনো এসিডের সন্ধান করবে। তারপর জুন ২০২০ সালে ওসাইরিস বেনুর ভূপৃষ্ঠের অবতরন করবে। যদিও পুরপুরি অবতরন করবে না, আসলে যেটা করবে সেটা হল খুব ধীর গতিতে ওসাইরিস বেনুর ভূ-পৃষ্ঠের খুব কাছে চলে আসবে। তারপর এই যানটি তার মধ্যে রাখার যান্ত্রিক হাত বের করে বেনুর মাটির স্যাম্পল সংগ্রহ করে নেবে। এভাবে ৪.৪ পাওউন্ড ম্যাটেরিয়াল সংগ্রহ করে ওসাইরিস সেগুলোকে নিজের মধ্যে থাকে একটি সুরক্ষিত ভল্টে রাখবে পৃথিবীতে নিয়ে আসার জন্য।

আনুমানিক ২০২৩ সালে অসাইরিস রেক্স যান পৃথিবীতে ফিরে আসবে। আর সেই সঙ্গে নিয়ে আসবে সৌর জগতের শুরুর সময়ের এমন কিছু তথ্য যা অনেক রহস্যের ওপর থেকে পর্দা সরাতে পারে। যার মধ্যে একটি হলো জীবনের সৃষ্টি কিভাবে হয়েছিল। আর তার জন্য আমাদের ২০২৩ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

আজকের নড়াইল
আজকের নড়াইল
এই বিভাগের আরো খবর