রোববার   ২০ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৫ ১৪২৬   ২০ সফর ১৪৪১

২৪৪

লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সবুজ সংকেত পেতে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২ জানুয়ারি ২০১৯  

নড়াইল জেলার লোহাগড়ায় আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এবার দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার ঘোষণায় ভোটারদের কাছে না গিয়ে অনেক প্রার্থী এখন দলের সবুজ সংকেত পেতে ধরনা দিচ্ছেন জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে। অনেকে আবার ছুটছেন ভোটারদের দ্বারপ্রান্তে। আওয়ামী লীগের দলীয় টিকেট পাওয়ার জন্য তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে ব্যস্তসময় পার করছেন। প্রার্থীদের পাশাপাশি ভোটারদের মাঝেও দেখা যাচ্ছে ভোটের আমেজ। হাট-বাজার ও পাড়ার চায়ের দোকান গুলোতে চলছে প্রার্থীদের নিয়ে জল্পনা-কল্পনা। 

সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে ১০ থেকে ১২ জনের নাম শোনা গেলেও আলোচনায় রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমীর লিটু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শিকদার আব্দুল হান্নান রুনু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুরুল করিম মুন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি লেঃ কমান্ডার এম এ আব্দুল্লাহ্ (অব.)।

২০১৪ সালের ২৪ এপ্রিল সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। লোহাগড়ার শিক্ষা, সাংস্কৃতি, ক্রীড়াঙ্গনসহ বিভিন্ন সেক্টরে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছেন তিনি। ক্লিন নড়াইল, গ্রীণ নড়াইল গড়তে এই জনপ্রতিনিধি ব্যক্তিগত ভাবে ২৫ হাজার বৃক্ষরোপন করেছেন। এছাড়া তিনি ভিক্ষুক মুক্ত নড়াইলে পুনর্বাসিত ভিক্ষুকদের ভিক্ষার হাতকে কর্মে রুপান্তর করতে ৭ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছেন। প্রার্থী মনোনয়নের ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফজুল আমির জানান, দলীয় হাই কমান্ডারের নির্দেশ ক্রমেই প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন প্রদান করা হবে। তিনি আরও জানান, মনোনয়নের ক্ষেত্র দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ ও ত্যাগী নেতারা প্রাধান্য পাবেন। 

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিদার আব্দুল হান্নান বলেন, ২০০৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে লোহাগড়ার উন্নয়নে কাজ করে আসছি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে স্বপ্ন গ্রামকে শহরে রুপান্তর করা, আমিও এই স্বপ্নটি দেখি একটি গ্রাম হবে একটি শহর। দলীয় প্রতীকে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নিজেকে আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী হিসেবে দাবি করে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন তিনি। 

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এম এ আব্দুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে শিক্ষিত, মেধাবী ও সৎ তরুণ নেতৃত্বের বিকল্প নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে অভাবনীয় উন্নয়ন সারা দেশে সম্পন্ন করছেন, সেই উন্নয়নের সাথে তাল মেলোতে পারছেন না স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এ জন্য আমাদের প্রয়োজন একটি দক্ষ, সৎ এবং প্রশাসনের সাথে সার্বিক সম্পর্ক সম্পন্ন করে উপজেলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। জনপ্রতিনিধি হওয়া রাজনীতির লক্ষ্য নয় এমনটাই দাবি করে তিনি আরও বলেন, রাজনীতির লক্ষ্য মানুষের সেবা করা। সেই লক্ষ্যেই রাজনীতিতে আসা।

তরুণ প্রজন্ম এবং উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে যে প্রার্থী কাজ করবে তাকেই ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করবেন বলে মত প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভোটাররা। প্রায় ২৮৭.০৬ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলায় মোট জনসংখ্যার পরিমান ২লাখ ২৮হাজার ৫৯৪জন। ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই উপজেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৭৯ হাজার ৪০৮জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৮৮ হাজার ৯২১জন, মহিলা ভোটার ৯০ হাজার ৪৮৭জন।  উল্লেখ্য: উপজেলা পরিষদ গঠনের পর শেখ আঃ ছবুর ১৯৮৫ সাল হতে ১৯৯০ সাল এবং শেখ হাফিজুর রহমান ১৯৯০ সাল হতে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান হিসেবে চায়িত্ব পালন করেছেন।

আজকের নড়াইল
আজকের নড়াইল
এই বিভাগের আরো খবর