রোববার   ২০ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৫ ১৪২৬   ২০ সফর ১৪৪১

১০৩

লক্ষ্য যাঁদের বিসিএস

প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০১৯  

স্বপ্নের বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন অনেকেই, কিন্তু সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে বেশি দূর এগুতে পারেন না। অনেকেই ভাবেন, চাকরির পাশাপাশি কোচিং করা সম্ভব নয়। আবার অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে বিসিএস এর জন্য প্রস্তুতি নিতে অনীহা প্রকাশ করেন।

তবে বিসিএস এর জন্য প্রচুর পড়াশোনা করতে হবে এই ভাবনা আসলে ঠিক না। দরকার রুটিন মাফিক পড়াশোনা আর সময়সূচি অনুসরন। তাহলেই কেবল স্বপ্নের বিসিএস এ কাঙ্খিত ফল লাভ সম্ভব।

চলুন জেনে নিই বিসিএসে সফল হওয়ার কিছু উপায়-

পরিকল্পনা

প্রথমেই বিসিএস সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য জোগাড় করতে হবে। পরীক্ষার তারিখ, সিলেবাস, পরীক্ষার ধাপ সমূহ, আবেদন এর শেষ তারিখ, আসন সংখ্যা ইত্যাদি জেনে রাখুন।

পড়ার সঙ্গী নির্বাচন

গ্রুপ স্টাডি এই পরীক্ষার জন্যে খুবই জরুরি। বিশেষ করে যারা নতুন পরীক্ষার্থী তাদের জন্যে পুরনোদের সঙ্গে গ্রুপ স্টাডিতে যোগ দিতে হবে। এমন কাউকে আপনার পড়ার সঙ্গী বানাতে হবে যে আপনার মতই সিরিয়াস। এতে করে অনেক পড়ার কৌশল শিখা যায়। কিভাবে পড়া শুরু করা উচিত, কোন বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিতে হবে, ইত্যাদি। ভালো সার্কেল এর সাথে পড়ালেখা করলে আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

বই সংগ্রহ

বাজারে বিসিএস এর জন্যে অনেক বই আছে। এর মধ্যে বেছে নিতে হবে ভালো মানের বই। এ বিষয়ে সাহায্য নিতে পারেন পূর্বে বিসিএস এ উত্তীর্ণদের কাছ থেকে। বিষয় অনুযায়ী বই কিনতে হবে। প্রয়োজনে একটি বিষয়ের জন্যে একাধিক বই সংগ্রহ করা যেতে পারে।

পড়ার পরিবেশ

পড়ায় মনযোগ এবং আগ্রহ তৈরি করার ক্ষেত্রে পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোথায় পড়বেন সেটা নির্বাচন করে ফেলুন। বাসায় পরিবেশ না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় এর লাইব্রেরী অথবা কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এর লাইব্রেরী তে চলে যেতে পারেন। অথবা কয়েকজন মিলে পছন্দসই কোন একটি জায়গায় পড়ার পরিবেশ তৈরি করে নিতে পারেন।

সময় নির্ধারণ

বিসিএস প্রস্তুতির জন্য ঠিক কতটা সময় আপনি দিতে পারবেন এ নিয়ে একটি পরিকল্পনা গ্রহন করুন। তবে প্রতিদিন যেন সব বিষয় পড়া হয় । চাকরিজীবীদের অফিস পরবর্তী সময় এবং ছুটির দিনগুলোতে সময় ভাগ করে নিতে হবে।

কোচিং এর প্রয়োজনীয়তা

অনেকে বলে কোচিং ছাড়া বিসিএস এ চান্স পাওয়া সম্ভব না। আবার কারো ধারণা কোচিং করলে সময় নষ্ট হয়। আসলে কোচিং এর গুরুত্ব সম্পূর্ণ আপনার উপর নির্ভর করে। আপনি যদি পড়াশোনায় মনযোগী না হন কিংবা বিচ্ছিন্নভাবে পড়াশোনা করেন তাহলে কোচিং এ যাওয়াই উত্তম। কোচিং এর বিকল্প হিসেবে প্রাক্তন কোন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে নিয়মিত অথবা সপ্তাহে দুই একদিন পরামর্শ নিতে পারেন। নিয়মিত পড়াশোনা করাটাই আসল উদ্দেশ্য।

পূর্ববর্তী বিসিএস এর প্রশ্ন

পূর্ববর্তী বিসিএস এর প্রশ্ন হুবুহু না আসলেও, সেই প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা রাখতে হবে। এতে আসন্ন বিসিএস এ কি ধরনের প্রশ্ন হতে পারে ধারণা হয়ে যাবে। প্রশ্নের মান, কোন বিষয়ে আপনার কি ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে এগুলো জানা যাবে।

মডেল টেস্ট

যেকোন পরীক্ষার জন্যেই মডেল টেস্ট এর গুরুত্ব অনেক। পরীক্ষার জন্যে আপনার প্রস্তুতি কেমন সেটা সম্পর্কে ধারণা দিবে মডেল টেস্ট। কোন বিষয়ে আপনাকে আরো বেশি জোর দিতে হবে সেটাও জানতে পারবেন। নিয়মিত মডেল টেস্ট দিতে হবে।

যেভাবে পড়বেন

নবম দশম শ্রেণির গণিত, বিজ্ঞান বইগুলো পড়ুন। প্রাথমিক প্রস্তুতির জন্য বাজারে সাম্প্রতিক তথ্যাবলি নিয়ে সংকলন পাওয়া যায়। যাচাই বাছাই করে একটি ঢাউস সাইজের বই কিনে নিতে পারেন। প্রতিটি অধ্যায়ের ভূমিকাটুকু ভালো করে পড়ে ফেলবেন । প্রয়োজনে রঙিন কলম দিয়ে দাগিয়ে রাখবেন। প্রতিদিন নিয়মিত পত্রিকা পড়বেন। আপনার মাথায় থাকবে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি, বিজ্ঞানের সামপ্রতিক আবিষ্কার, বিশ্বব্রহ্মান্ডের সর্বশেষ তথ্য। কম্পিউটার, ইন্টারনেট, তথ্যপ্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য। চমকপ্রদ এবং গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো নোটস আকারে খাতায় লিখে রাখতে পারেন। পেপার কাটিং অ্যান্ড ক্লিপিংস করে রাখতে পারেন। তবে পেপার কাটিং রাখার আগে আর্টিকেলগুলো ভালোভাবে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কলম দিয়ে দাগিয়ে রাখবেন। পরীক্ষার আগে পুনরায় চোখ বুলানোর সময় আপনার সেই তথ্যগুলো কাজে লাগবে।

বাংলা ইংরেজির ক্ষেত্রে নবম দশম শ্রেণির গ্রামার বই আত্মস্থ করে ফেলুন। ইংরেজি শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করুন। পাঠ্য বইয়ের বাইরেও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন লেখকের উপন্যাস, ঐতিহাসিক উপন্যাস, অনুবাদ, প্রবন্ধ ইত্যাদি পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। বাংলা ইংরেজি সাহিত্যের লেখক এবং তাদের উল্লেখযোগ্য লেখা সম্পর্কে জানুন। নবম দশম শ্রেণির পাটিগণিত, বীজগণিত, জ্যামিতি ভালোভাবে অধ্যয়ন করুন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সম্পর্কে জানার আগ্রহ থাকতে হবে। আপনার টেবিলের সামনে দেয়াল জুড়ে একটা বিশ্ব ম্যাপ এবং বাংলাদেশের ম্যাপ রাখুন। যখন আন্তর্জাতিক কোনো বিষয় পড়বেন বা বাংলাদেশের কোনো তথ্য জানবেন তখন ম্যাপে দেশটির অবস্থানের উপর চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন। এতে আপনার বিশ্ব এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে ভালো জানা হবে।

বিভিন্ন পরিসংখ্যান মনে রাখার দক্ষতা থাকতে হবে। আরেকটি কাজ করবেন। একটি বড় আর্ট পেপার নিবেন। সেই পেপারে বিশ্বের সবগুলো দেশের নাম, প্রেসিডেন্ট প্রধানমন্ত্রীর নাম, মুদ্রা, স্বাধীনতা কাল, রাজধানী, প্রধান আমদানি-রপ্তানি পণ্য ইত্যাদি লিখে রাখুন।

আজকের নড়াইল
আজকের নড়াইল
এই বিভাগের আরো খবর