বৃহস্পতিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৪ ১৪২৬   ১৯ মুহররম ১৪৪১

২৮৪

মাশরাফি সাজে সেজেছে নড়াইল

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮  

ক্রিকেটের মাঠে সব সময়ই বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরেছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করেছেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা ও দেশপ্রেমের অনন্য নজির। যে অধিনায়কের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল পায় দুর্লঙ্ঘ্য এক সাহস। সেই অধিনায়কই লড়ছেন এখন রাজনীতির মাঠে।

দেশে বর্তমানে বইছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উচ্ছল হাওয়া। নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী করা হয়েছে বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত মাশরাফি বিন মর্তুজাকে। নৌকার প্রার্থী হওয়ার পর শনিবার প্রথম নিজ নির্বাচনী এলাকায় যান মাশরাফি। এরপর থেকেই নড়াইল যেন সেজেছে মাশরাফি সাজে।

অধিনায়ক আসছেন- এই সংবাদে নড়াইল সদর ও লোহাগড়ার মানুষ মেতে ওঠে উৎসবের আমেজ নিয়ে। সকাল থেকে ফুলের তোড়া, দলে দলে মিছিল করে মাশরাফিকে বরণ করে নিতে হাজির হয় হাজারো মানুষ মধুমতী নদীর কালনা ও শঙ্করপাশা ঘাটে। একসময়ের খরস্রোতা মধুমতীর যৌবন হারিয়ে গেলেও মাশরাফিকে ঘিরে গতকাল হাজারো মানুষের প্রাণবন্ত স্রোত ফের রূপ নেয় পুরনো খরস্রোতা মধুমতীর মতো।

আওয়ামী লীগ ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা নড়াইলবাসীকে সঙ্গে নিয়ে মাশরাফিকে বরণ করে নেন। কালনা-যশোর মহাসড়কের দুই পাশে হাজার হাজার মানুষ দিনভর ফুলের তোড়া হাতে নৌকার স্লোগান দিয়ে মাতিয়ে তোলে সেখানকার পরিবেশ। এ সময় মাশরাফি হাত নেড়ে উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানান। কালনা ফেরিঘাট থেকে নড়াইল সদরে গাড়ি করে যেতে লাগে সর্বোচ্চ ২০ মিনিট। অথচ গতকাল উপস্থিত সর্বস্তরের ভোটারের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে মাশরাফির নড়াইল সদর পর্যন্ত পৌঁছাতে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়ে যায়। এরইমধ্যে মাশরাফি পাঁচটি পথসভা করেন।

মহাসড়কের পাশেই হাতে ফুল নিয়ে বসে আছেন প্রতিবন্ধী মো. সাগর মিয়া। মাশরাফির কথা জানতে চাইলে সাগর বলেন, ‘মাশরাফি ভাইকে না দেখে গেলে পেটে একটা দানাও পড়বে না। উনার জন্য সকাল থেকে বসে আছি।’ সিলেটের জিন্দাবাজারের মিরা পাবলিকেশন লাইব্রেরির মালিক দিদার রহমানও মাশরাফির জন্য নড়াইলের ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে এসেছেন। পাঁচদিন ধরে লোহাগড়ায় থেকে তিনি মানুষের কাছে নৌকার জন্য ভোট চাচ্ছেন। দিদার রহমান বলেন, ‘তিনি মাঠে খেলছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে। পুরো দেশেই নির্বাচনে এমপি প্রার্থীরা নিজেদের জন্য ভোট চাইছেন। অথচ খেলার কারণে মাশরাফি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় ভোট চাইতে পারছেন না। এ কারণে সিলেট থেকে মাশরাফির জন্য ভোট চাইতে নড়াইলে এসেছি।’

লোহাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল শিকদার বলেন, ‘আমাদের নেত্রী মাশরাফিকে প্রার্থী দিয়েছেন, তাকে বরণ করতে আমরা এখানে অপেক্ষা করছি। দলমত নির্বিশেষে নড়াইলের সর্বস্তরের মানুষ নৌকার জন্য মাঠে নেমেছে। বিপুল ভোটে পাশ করবেন মাশরাফি।’

লোহগড়ায় কালনা ফেরিঘাটের পাশে এক পথসভায় মাশরাফি বিন মর্তুজা স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি আসছি আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে। নড়াইলের প্রতিটি ইউনিয়নে আমি যাব। সবার সঙ্গে কথা বলব। আমি আপনাদেরই সন্তান। আপনারা জানেন আমার প্রতীক হচ্ছে নৌকা। ইনশাআল্লাহ আপনারা নৌকায় ভোট দেবেন। আপনারা যোগ্য মনে করলে আমাকে নৌকায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। সে জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’

লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শেখ সিহানুর রহমান বলেন, ‘এই আসনে মাঠে যুদ্ধ নেই। আমরা অপেক্ষায় আছি কত ভোটের ব্যবধানে মাশরাফিকে জেতানো যায়। ঘরের বউ-ঝিরাও মাঠে নেমেছে। কিশোর-তরুণরা দল বেঁধে ভোট চাইছে। ১৯৭১ সালের পর এমন উৎসবের আমেজে আর কোনো দিন ভোট করেনি নড়াইলবাসী। মাশরাফির জন্য সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছে।’

নড়াইল সদর ও লোহগড়া উপজেলা সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নড়াইল-২ আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র বোসসহ নৌকার টিকিট পেতে ১৬ জন জোর লবিং চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত নৌকার টিকিট তুলে দেওয়া হয় মাশরাফির হাতে। আর মাশরাফিকে পেয়ে আওয়ামী লীগের সব মনোনয়নপ্রার্থীই এখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাশরাফিকে জেতাতে মরিয়া হয়ে কাজ করছেন।

তবে সব কিছু ছাপিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছে আরেকটি বিষয়, মাশরাফির শ্বশুরবাড়ির এলাকা লোহাগড়ায় বেশি ভোট পাবেন, নাকি নিজের জন্মভিটা নড়াইল সদরে বেশি ভোট পাবেন। ইটনা যুবলীগের সভাপতি প্রকাশ কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘নিজের উপজেলার চেয়ে শ্বশুরবাড়ির উপজেলায় দ্বিগুণের বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হবেন মাশরাফি। আমরা সেভাবেই কাজ করছি।’

মাশরাফির জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আনিসুর রহমান। তিনি নড়াইল সদর পৌর এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি বলেন, ‘ক্রিকেট খেলে যে ছেলে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে, সেই মাশরাফি যদি আমাদের এমপি হয়, সেটা আমাদের নড়াইলবাসীর সৌভাগ্য। নিশ্চয়ই নেত্রী মাশরাফিকে আরো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেবেন।

আজকের নড়াইল
আজকের নড়াইল
এই বিভাগের আরো খবর