রোববার   ২০ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ৫ ১৪২৬   ২০ সফর ১৪৪১

২৫৯২

মনোনয়ন বাণিজ্যে জড়িত বিএনপির অন্তত ২৩ নেতা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ নভেম্বর ২০১৮  

সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়ন বাণিজ্যের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলকে সুরক্ষিত রাখতে গোপনে একটি অনুসন্ধানী দল গঠন করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

অনুসন্ধানী দলের তথ্য মতে, সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা জড়িয়ে পড়েছেন মনোনয়ন বাণিজ্যে। এসব নেতারা মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। এমনকি প্রত্যেক নেতারাই ওই অর্থ সংগ্রহ করছেন তারেক রহমানের নাম ভাঙ্গিয়ে।

সূত্র বলছে, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একই প্রক্রিয়ায় অর্থের মোহে পড়ে ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করে দলের সিনিয়র নেতারা। এ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেয় তারা। পরবর্তীতে এর প্রভাব পড়ে ভোটের মাঠে। অধিকাংশ সিটিতেই বিপুল ভোটে পরাজয় ঘটে বিএনপির প্রার্থীদের। যা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে প্রকাশ্যে আসে। আর সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে সে লক্ষ্যেই এই অনুসন্ধানী দল গঠন করেছেন তারেক রহমান।

তারেক রহমানের বিশেষ আস্থাভাজনদের নিয়ে গঠিত ওই দলের কয়েকজন সদস্যের বরাতে সূত্র বলছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা এই বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। যা উদ্বেগজনক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনুসন্ধানী দলের একজন সদস্য বলেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন আসনে প্রায় অর্ধশতাধিক নতুন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে। এমনকি তাদের মনোনয়ন দিতে দলের শীর্ষ নেতারা তদবিরও করেছেন। এখন পর্যন্ত তাদের কাছে পৃথক পৃথক শীর্ষ নেতারা তারেক রহমানের কথা বলে জনপ্রতি ৫ কোটি টাকা করে উৎকোচ গ্রহণ করেছে।

নেতাদের পরিচয় জানতে চাইলে গোপনীয়তা বজায় রাখার মর্মে উক্ত নেতা বলেন, বিষয়টি সরাসরি তারেক স্যারের (তারেক রহমান) আওতাভুক্ত বলে নেতাদের নাম প্রকাশ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শীর্ষ নেতাদের প্রায় ২৩ জন নেতার নাম পাওয়া গেছে। যাদের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণও পাওয়া গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, কেবল বাণিজ্যের কারণে মনোনয়ন বঞ্চিত চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মমিনুল হক গণমাধ্যমকে সম্প্রতি বিএনপি নেতাদের মনোনয়ন বাণিজ্য নিয়ে অভিযোগও করেছেন। তিনি জানান, চাঁদপুর- ৫ থেকে সাবেক সাংসদ এম এ মতিন এর আগে নির্বাচিত হলেও তার জনবিমুখতা ও নিশ্চিত পরাজয়ের শঙ্কা থাকলেও শুধু মাত্র অর্থের কারণে তাকে আবারও এই আসনে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। সিনিয়র কয়েকজন নেতা কোটি কোটি টাকা নিয়ে মতিনকে এই আসনে মনোনয়ন দিয়েছেন। বিষয়টি দুঃখজনক। তিনি জানিয়েছেন, দেশের এরকম অনেক ত্যাগী নেতা রয়েছেন যারা কেবল অর্থের কারণে মনোনয়ন পাচ্ছেন না।

এমন বাস্তবতায় দলের নানা সংকটের মুখে নতুন করে নেতাদের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ উদঘাটিত হওয়ায় আসন্ন নির্বাচনে জয় নিয়ে সংশয় পোহাতে হচ্ছে তারেক রহমানকে।

আজকের নড়াইল
আজকের নড়াইল
এই বিভাগের আরো খবর