বৃহস্পতিবার   ২২ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৭ ১৪২৬   ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

৮৫

বছরে টানা ৪২ দিন কথা বলেন না তারা!

প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০১৯  

ভারতের কিছু গ্রামের বাসিন্দাদের টানা ৪২ দিন কথা না বলার প্রথা রয়েছে। ওই গ্রামগুলোর বাসিন্দারা জানুয়ারির ১৪ তারিখ থেকে ফেব্রুয়ারির ২৫ তারিখ পর্যন্ত কেউ কারো সঙ্গে কথা বলেন না।

ভারতের হিমাচল প্রদেশের মানালির কুলু জেলার গোশাল, বুরুয়া, শানাগ ও কুলাং গ্রামে এই প্রথা রয়েছে। এছাড়া মাঝাচ, পালচান, কোঠি, রুয়ার গ্রামের বাসিন্দারাও এই ৪২ দিন নীরবতা পালনের বিষয়টি বিশ্বাস করেন।

তবে গ্রামের কারো সঙ্গে তারা কথা না বললেও এই সময়ে হেডফোনে গান শোনেন, বেড়াতে যান, বাড়ির কাজ করেন। পাশাপাশি কোনো পর্যটককেও কথা বলার সুযোগ দেন না গ্রামের বাসিন্দারা।

 
সোলাং ও রুয়ার মতো গ্রামে আবার চুপ থাকার পাশাপাশি কৃষিকাজও বন্ধ থাকে। মাঘ মাসে মকর সংক্রান্তির সময় থেকে এই রীতি চালু হয়।

তবে, এক টানা ৪২ দিন কেন চুপ করে থাকেন এই গ্রামগুলোর বাসিন্দারা? কেউ কেউ বলেন, এই সময় গভীর ধ্যান করে ঈশ্বর স্বর্গের পথে ফিরে যান। স্বর্গে যাওয়ার পথে অসুবিধার মুখে যাতে না পড়েন, তাই নাকি এই চল। তবে এই নিয়ে পৌরাণিক মতও রয়েছে।

বিপাশা নদীর পাশে ঋষি গৌতম তপস্যা করছিলেন। তার তপস্যা ভঙ্গ না হতেই এই ব্যবস্থা। বহু প্রাচীন একটি মন্দিরও রয়েছে এখানে। মকর সংক্রান্তির দিন লোহ্রিতে পূজার্চনার পর বন্ধ করে দেয়া হয় মন্দির।

গৌতম ঋষি ছাড়াও বেদব্যাস ও কাঞ্চন নাগের মূর্তিও রয়েছে এই মন্দিরে। মানালির গোশাল গ্রামের এই মন্দিরটি এই সময়ে পর্যটকের জন্য বন্ধ থাকে। মন্দিরে কোনো রকম পূজাও করা হয় না, সংবাদ সংস্থাকে এমনটাই জানান পুরোহিত।

ফেব্রুয়ারির ২৫ তারিখের পর মন্দির খোলে। তা নিয়ে একটি মিথ প্রচলিত রয়েছে। সেই সময়ে মন্দিরের মেঝেতে একটা ফুল যদি পড়ে থাকে, তা হলে তা গ্রামগুলির জন্য শুভ বলে মনে করা হয়। আর যদি তা না হয়ে কয়লার টুকরো পড়ে থাকে, ধরে নেয়া হয় গ্রামে পাঁচ দিনের মধ্যেই অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বৈজ্ঞানিক মত বলছে, বরফ ঢাকা এই জায়গাগুলোতে রোদের আভাস মিললে খোলে মন্দির। এতটাই বেশি বরফ পড়ে সেখানে যে, শীতকালে কর্মক্ষমতাই থাকে না স্থানীয় বাসিন্দাদের। বেশিরভাগ সময়টাই ক্লান্ত লাগে। তাই কথা বলার বা বাড়ি থেকে বেরোনোর সুযোগ পাওয়া যায় না।

আজকের নড়াইল
আজকের নড়াইল
এই বিভাগের আরো খবর