বৃহস্পতিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৪ ১৪২৬   ১৯ মুহররম ১৪৪১

১৮৫

ঢাকার জনপ্রিয় ৭ চা

প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  

নগরে শীত এখনো পুরোপুরি আসেনি। কিন্তু শীতের ঠাণ্ডা হাওয়া গায়ে লাগতে শুরু করেছে। এমন শীত-সন্ধ্যা কিংবা কুয়াশা মাখা সকালে এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চায়ের কোনো বিকল্প হতে পারে না! এসময় কাজের ফাঁকে, আলসেমি ভরা দুপুর কিংবা ব্যস্ত বিকেলে নিমিষেই চনমনে হয়ে উঠতে সঙ্গী করতে পারেন এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা-কে।

চা মানুষের বহুকালের অভ্যাস, একাকিত্বের সঙ্গী অথবা জমিয়ে আড্ডা দেয়ার বাহনও বলা যায়। তাইতো চা কিংবা কফি পানের জন্য শীত-গ্রীষ্মের প্রয়োজন পড়ে না। তবে শীতে চা পানের আয়েশটাই যেন অন্যরকম। তাই শীতকালে চা খেতে ভালোবাসেন বেশিরভাগ মানুষে। তবে ঘরের বারান্দা কিংবা অফিসের কোনে বসে পান করার চেয়ে বাইরের টঙ দোকানে নানা ঢঙে বসে চা পান করার ব্যপারটা আরো রোমাঞ্চকর। আজ ১৫ ডিসেম্বর, বিশ্ব চা দিবস। এই দিনে হাজির হয়েছি ঢাকার বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় টং দোকান ও চায়ের খবর নিয়ে-

নাসির মামার চা: পাতিল ভর্তি চা নিয়ে সকাল ৮ টা থেকে ‘চা-যাত্রা’ শুরু করেন নাসির! ভোরে এসেই তিনি সব উপাদানের দক্ষ প্রয়োগ করে চা আগে থেকেই বানিয়ে পাতিল ভরে রাখেন। এরপর চুলায় বসিয়ে রাখেন আর খদ্দের আসলেই তাদের হাতে তুলে দেন গরম চায়ের কাপ। তার চা-এর বিশেষত্ব হলো, খুব ঘন হয় এবং চিনির পরিমাণ ঠিকমতো দেওয়া থাকে। প্রতি কাপ ১০ টাকা। গুলশানের অফিস পাড়ার লোকদের লাঞ্চ-এর পরের আড্ডা দেয়ার প্রিয় জায়গা এটি। গুলশান-১-এর পোস্ট অফিসের সাথেই চায়ের দোকানটি অবস্থিত।

কাজীর চা: শীত আসলেই দোকানদার ‘জলপাই রঙ চা’ বিক্রি শুরু করে। টক আর মিষ্টির এক ধুন্ধুমার রোমান্স আপনার জিহ্বায় শুরু হবে যখন আপনি এই চায়ে চুমুক দেবেন। তবে এর পাশাপাশি কাজীর পুদিনা পাতার-লেবুর চা-ও অসাধারণ। খিলগাঁওয়ের বাগিচা মসজিদের পাশে এই দোকানটি অবস্থিত।

মোহাম্মদপুরের এলাচী চা: তাজমহল রোডে এক নারী এলাচী চা বিক্রি করেন। তার চা-এর বিশেষ উপাদান হচ্ছে এলাচ! যারা এলাচ পছন্দ করেন তাদের এই চা ভালো লাগবে। প্রতি কাপের দাম ১২ টাকা। মোহাম্মদপুরের তাহমহল রোডের কেন্দ্রীয় কলেজ গেটের সাথে এই দোকানটি।

 

1.ঢাকার জনপ্রিয় ৭ চা

হান্নানের চা: ঢাকায় চায়ের জন্য জনপ্রিয় আরেকটি ঠিকানা হলো পান্থপথের ‘হান্নানের চা-এর দোকান’। লেবু ও পুদিনা পাতার রঙ চা ও আদা-দুধ চা এখানকার সবেচেয়ে জনপ্রিয়। হান্নানের চা-এর লিকার হয় একদম পরিমাণমতো। দোকানের কাছে গেলে এবং চায়ের কাপ মুখের কাছে নিলেই লেবুর সুন্দর একটা ঘ্রাণ আসে। আর চুমুক দিলেই সব ক্লান্তি শেষ! রঙ চা প্রতি কাপ ১০ টাকা, আর আদা-দুধ চা ১২ টাকা।

মৌচাক মোড়ের চা-ফি: চা আর কফির কম্বিনেশনকে চা-ফি বলা যায়! মৌচাকে মোড়ে পাওয়া যায় এই চা। দুটো দোকান আছে, দুটো থেকেই পাবেন এই চা। টেস্ট বেশ ভালো, প্রতি কাপ ১২ টাকা।

সেলিম মামার চা: মিরপুর ৬-এ অবস্থিত সেলিম মামার এই চায়ের দোকান বেশ পুরনো এবং ঐতিহ্যবাহী। প্রথমে গিয়ে দেখবেন তার দোকানে বেশ লম্বা চায়ের লিস্ট সাঁটানো। মালাই চা ও রঙ চা বেশ ভালোভাবে বানানো হয় এই দোকানে। যারা দুধে সর পছন্দ করেন না, তারা এই চা না খাওয়াই ভালো।

টি এস সি ও পলাশীর চা: এই দুটো জায়গা চা-আড্ডার জন্য খুব জনপ্রিয়। দুই জায়গায় প্রায় ৪০ রকমের চা পাওয়া যায়। বিশেষ করে বিকেল থেকে এখানে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী ছাড়াও অনেকেই আসেন এবং চা এর কাপ হাতে আড্ডায় মেতে উঠেন। এখানকার উল্লেখযোগ্য চা হলো: মরিচ চা, পনির চা, কাচা আমের ঝাল চা, মালাই চা ও দুধ চা।

আজকের নড়াইল
আজকের নড়াইল