বৃহস্পতিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৪ ১৪২৬   ১৯ মুহররম ১৪৪১

২৮৭

উটের পিঠে কুঁজো থাকে কেন?

প্রকাশিত: ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮  

উট একটি প্রাচীন প্রাণী যেটি প্রায় ৪৫ মিলিয়ন বছর ধরে পৃথিবীতে বাস করছে। পৃথিবীতে প্রত্যেকটি প্রাণীরই কিছু না কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে যা তাদের অন্যদের থেকে আলাদা করে। উটের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো তারা কুঁজো।বাচ্চারাও জানে কুঁজোওয়ালা বিশেষ প্রাণীটিই উট। তবে আমরা অনেকেই জানিনা যে এই উঁচু অংশটির কাজ কি। উটের উঁচু এই কুঁজো থাকার বিশেষ কারণ রয়েছে।চলুন উটের কুঁজো সম্পর্কে কিছু জেনে নেয়া যাক-

বর্তমানে প্রধানত মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলোতে উটের দেখা মিললেও বেশির ভাগ মানুষই হয়তো জানে না এই প্রাণীটির উৎপত্তি হয়েছিলো উত্তর আমেরিকায়! শুনে হয়তো ভ্রু কুঁচকাবে! আপনি ভাবতেই পারেন উত্তর আমেরিকা আর উট এই বিষয়টি কেমন যেন খাপছাড়া! শুধু তাই নয়, উট আর্কটিক অঞ্চলেও ঘুরে বেড়াতো! এই উত্তর মেরু অঞ্চলের ঠাণ্ডার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য তাদের পিঠে ক্রমশ উঁচু স্থান তথা কুঁজোর উৎপত্তি হয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন উটের এই কুঁজোই তার দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

তবে এই কুঁজো থাকার বেশ কিছু সুবিধাও হয়েছে। এই কুঁজো যে শুধুই উটের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে তা না, যারা উটের পিঠে চড়ে এই কুঁজো তাদের উটের পিঠে চড়াও সহজ করে দেয়।যদিও মানুষ যখন উটের পিঠে চড়া শুরু করে তার অনেক আগে থেকেই উটের পিঠে এই কুঁজোর উৎপত্তি।

 

ভ্রান্ত এক ধারণা প্রচলিত আছে যে, উট অতিরিক্ত পরিমাণ পানি তার কুঁজোতে জমিয়ে রাখে! অনেকে এমন মনে করেন কারণ উট মরুভূমির প্রাণী। আর মরুভূমিতে পানি পাওয়া অত্যন্ত দুষ্কর। অনেকদিন ধরেই এরকম ধারণা চলে আসলেও ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। উটের কুঁজোয় বাস্তবে কোনো পানি জমা থাকে না। মরুভূমির প্রাণী হওয়া সত্যেও উট কিন্তু অনেক সহিষ্ণু প্রাণী। বর্তমানে বিজ্ঞানীরা বলেন, উটের ডিম্বাকৃতি রক্তের কোষই উটের এতো সহিষ্ণুতার কারণ।

সিল্ক রোডের সময়ে ব্যবসায়ীরা এই সহিষ্ণু প্রাণীর পিঠে অনেক মালামাল বোঝাই করে দিত।এসব মালামাল তারা মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনে বহন করে নিয়ে যেতো। সেই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে আর কোনো ভালো বাহন ছিলো না উটের মতো। শুধু তাই নয় এতো কঠিন পথ পাড়ি দেয়ার পরও উট খুবই অল্প পরিমাণ পানি পান করতো। তাই বাণিজ্যের বাহন হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বণিকেরা উটই ব্যবহার করতো। এভাবেই উট 'মরুভূমির জাহাজ' হয়ে উঠলো।

খাবারের সংকট দেখা দিলে উট তার কুঁজোয় শক্তি জমায়। যখন মরুভূমি একেবারে শুকিয়ে যায় অথবা যখন কঠিন শীতে বালুতে একদমই কোনো সবুজ ঘাস টিকে না তখন উটের একমাত্র সম্বল হচ্ছে তাদের পিঠে চর্বি হিসেবে জমানো কুঁজো। তখন এই চর্বি থেকেই উট প্রয়োজনীয় শক্তি গ্রহণ করে। আর অনেক উট ব্যবসায়ী উট কেনার সময় উটের পিঠের কুঁজোর অবস্থা ভালোভাবে দেখে নেন।যে উটের কুঁজো যত হৃষ্টপুষ্ট সেই উট তত বেশি স্বাস্থ্যবান ।

 

মরুভূমিতে কি কখনো রাত কাটিয়েছেন? যদি না কাটান তাহলে হয়তো জানেন না মরুভূমিতে তাপমাত্রা দিন ও রাতে কেমন উঠানামা করে থাকে। দিনে যেমন শরীর সেদ্ধ করার মতো তাপমাত্রা থাকে, রাতে জমাট বাঁধার মতোই ঠাণ্ডা থাকে। উটের কুঁজোয় থাকা চর্বিযুক্ত টিস্যু এই গরম ঠাণ্ডায় অন্তরক হিসেবে কাজ করে। কুঁজো সূর্যের তাপ উটের দেহে প্রবেশ করতে দেয় না। সেজন্য উট সহজে ঘামে না আর তার দেহ কখনো পানিশূন্য হয় না।

দু’টি কুঁজোবিশিষ্ট উটকে বলা হয় ব্যাক্ট্রিয়ান উট। এরা সাধারণত অন্যান্য উটের চেয়ে আকারে বড় হয়। তবে ব্যাক্ট্রিয়ান উটের দু’টো কুঁজো থাকার কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আজ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে অনেকের ধারণা কুঁজো দু’টো থাকার কারণ হচ্ছে যাতে করে এরা আরো অধিক কঠিন পরিবেশে টিকে থাকতে পারে। উদাহরণ হিসেবে গোবি মরুভূমিতে এই ধরণের উট অথা ব্যাক্ট্রিয়ান উটের কথা বলা যায় যেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ৪০ ডিগ্রী ফারেনহাইট পর্যন্তও নেমে যেতে পারে।

 

আজকের নড়াইল
আজকের নড়াইল