বৃহস্পতিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯   আশ্বিন ৪ ১৪২৬   ১৯ মুহররম ১৪৪১

২৫৫

উচ্চতার স্বাভাবিক গণ্ডি পেরিয়েছেন যারা

প্রকাশিত: ৬ জানুয়ারি ২০১৯  

ফারাওদের মমি দেখলে আমরা বুঝতে পারি আদিকালের মানুষদের উচ্চতা কত বেশি ছিল কিন্তু বর্তমান সময়ে মানুষের উচ্চতা সর্বোচ্চ ৬ ফুট হলেই তাকে লম্বা বলে ধরে নেয়া হয়। মানুষের উচ্চতা দিন দিন কমছে, এর পক্ষে বৈজ্ঞানিক বেশ কিছু যুক্তি রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষদের ভীড়ে এখনো কিছু কিছু অস্বাভাবিক লম্বা মানুষের খোঁজ পাওয়া যায়। উচ্চাতার কারণে তারা বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছেন দুনিয়া জুড়ে। এমন কিছু মানুষের গল্প জেনে নিন -

 

ডন কোহেলার

ডন কোহেলার

ডন কোহেলার

যুক্তরাষ্ট্রের ডেনটানা, মনটানায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। কোহেলারের একটি যমজ বোন ছিল যে যার ৫’৯” এর স্বাভাবিক উচ্চতা ছিল। ডন কোহেলার ছিলেন ৮'২" লম্বা এবং ১৯৬৯ থেকে ১৯৮১ সাল অর্থাৎ তার মৃত্যু পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা ব্যক্তি হিসাবে পরিচিত ছিলেন। ১০ বছর বয়স থেকেই তার উচ্চতার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি শুরু হয়। তিনি স্থানীয় অটো ডিলার জিম মরনের হডসন মোটর গাড়ী কোম্পানির জন্য কাজ করতেন। জীবনের শেষ দিকে তিনি কাইফোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে ভুগছিলেন, যার ফলে মেরুদণ্ড বাঁকা হয়ে যায়। ১৯৮১ সালে কোহেলার হার্টের রোগে আক্রান্ত হয়ে ৫৫ বছর বয়সে শিকাগোতে মারা যান। ডন মারা গেলেও তার জমজ বোন পৃথিবীতে আরো বেশকিছু দিন সুস্থভাবে বেঁচে ছিলেন।

বিকাশ উপাল

বিকাশ উপাল

বিকাশ উপাল

১৯৮৬ সালে হরিয়ানার রোহাটক জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার উচ্চতা নিয়ে কিছুটা বিতর্ক রয়েছে। তিনি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস দ্বারা আনুষ্ঠানিক কোনো পরিমাপ করেননি। তিনি ৮ ফুট ৯ ইঞ্চি লম্বা বলে অনেকে মনে করেন, আবার কোথাও কোথাও রেকর্ড রয়েছে যে তিনি ৮ ফুট ১ ইঞ্চি ছিলেন। তিনি বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা জীবিত ব্যক্তি হিসাবে বিবেচিত হতে পারতেন, কিন্তু গিনেস বুক অফ রেকর্ডসগুলির কঠোর যাচাইয়ের মানদণ্ড রয়েছে এবং এ কারণে বিকাশ কখনো ঐ পর্যন্ত গিয়ে পরিমাপ করাননি। ৩০শে জুন, ২০০৭ তারিখে উপালের মস্তিষ্ক থেকে ডাক্তাররা যখন টিউমার অপসারণ করছিলেন তখন তিনি অপারেশন টেবিলেই মারা যান। তিনি ভারতীয় সিনেমা ‘রাঙ দে বাসান্তি’ তেও অভিনয় করেছিলেন।

রবার্ট ওয়াডলো

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ১৯১৮, অ্যাডি ওয়াদলো ৮ দশমিক ৭ পাউন্ডের একটি স্বাস্থ্যকর শিশুর জন্ম দেন। যার নাম রাখেন রবার্ট পারসিং ওয়াডলো। বেশিরভাগ বাচ্চাদের মতো তার জীবনের প্রথম কয়েক মাসের বৃদ্ধি স্বাভাবিকভাবেই হতে শুরু করে। ১ বছর পার হওয়ার পরই সে অন্যান্য বাচ্চাদের তুলনায় তিনি অত্যন্ত দ্রুত বড় হতে থাকে, বিশেষ করে লম্বা হয়ে উঠতে থাকে। তার প্রথম জন্মদিনে তিনি ৪৫ পাউন্ড, এবং ৩ ফুট, ৩.৫ ইঞ্চি লম্বা ছিল। তাঁর অষ্টম জন্মদিনে তিনি তার পিতার উচ্চতা ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি অতিক্রম করে গিয়েছিলেন। ১৩ বছর বয়সে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা বয় স্কাউট হিসেবে যোগদান করেন ৭ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে। স্নাতক পাসের সময় তিনি ৮ ফুট ৪ ইঞ্চি লম্বা ছিলেন। তার ইউনিফর্ম তৈরি করার জন্য ৪২ ফুট সমমানের কাপড় প্রয়োজন হত। ডাক্তাররা নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখেন যে রবার্টের পিটুইটারী গ্রন্থি হাইপারপ্ল্যাসিয়া দ্বারা আক্রান্ত।

 

রবার্ট ওয়াডলো

রবার্ট ওয়াডলো

যার জন্য মানুষের শরীর বৃদ্ধির হরমোনগুলো অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায় ও শারীরিক উচ্চতা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে থাকে। এমনকি রবার্ট যে বয়সে মৃত্যুবরণ করেন সে সময়েও, তার দেহ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছিল এবং এই বর্ধন থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল না। ১৯৪০ সালের ১৫ জুলাই তার মৃত্যু হয়। অস্বাভাবিক আকার থাকা সত্ত্বেও, রবার্ট ওয়াডলোর বাবা-মা তার জীবনকে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেছিলেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অংশগ্রহণের জন্য তার জন্য একটি বিশেষ টেবিল তৈরি করা হয়েছিল। ওয়াডলো শুধুমাত্র তার জন্য নির্মিত বিশেষ গাড়িতেই চলাচল করতে পারতেন, সেই বিশেষ গাড়িতে তার উচ্চতার জন্য সিট সরিয়ে বিশেষ স্থান তৈরি করা হয়েছিল। ওয়াডলো এর জুতা পরবর্তী সময়ে একটি নিদর্শন হয়ে যায়। আন্তর্জাতিক জুতো কোম্পানি তার জন্য ‘39AA’ সাইজের বিশেষ জুতো তৈরি করতো। এর দ্বারা তারা তাদের ব্যবসার প্রচারণা বাড়াতেও সক্ষম হয়। তার চার ভাই ও বোনদের মধ্যে তিনি সবচেয়ে বড় ছিলেন। তিনি তার ভাইবোনদের সঙ্গে সবধরণের খেলাধুলা ও কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করতেন।

সুলতান কোসেন

সুলতান ১৯৮২ সালের ১০ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ১০ বছর বয়স পর্যন্ত তার উচ্চতার স্বাভাবিক বৃদ্ধিই ঘটেছিল, সে বয়সে অন্যান্য শিশুদের যেমন হয়। তার পরিবার এর বাবা মা এবং চার ভাই বোন সহ সকলেরই গড় উচ্চতা ছিল। সুলতানের অস্বাভাবিক উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়া শুরু করে "পিটুইটারি গিগ্যান্টিজম" নামে পরিচিত একটি রোগের কারণে ঘটে, যা উচ্চতার হরমোন অনেক বেশি হারে উৎপাদন হয়। সাধারণত পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে বৃদ্ধির হরমোন মস্তিষ্কে পৌঁছায়। যদি গ্রন্থি টিউমার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন এটি খুব বেশি বা খুব কম হরমোন রিলিজ করতে পারে। এই অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে হাত, পা ও হাড়গুলো বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং শরীরের জয়েন্টগুলোতে ভীষণ ব্যাথা অনুভূত হতে থাকে। গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১১ থেকে পৃথিবীর সবচেয়ে লম্বা মানুষ হচ্ছে তুরস্কের আঙ্কারার সুলতান কোসেন। যার উচ্চতা ২৫১ সেন্টিমিটার (৮ ফুট ২.৪ ইঞ্চি) মাপের।

সুলতান কোসেনসুলতান কোসেন

এর পূর্বে বছর ধরে গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড দ্বারা পরিমাপ করা প্রথম লম্বা ব্যক্তি ৮ ফিট (২.৪৩ মিটার)।সুলতান একটি জীবন্ত ব্যক্তির সর্ববৃহৎ হস্তের রেকর্ডও রাখেন। সুলতানের হাতের কব্জি থেকে মধ্যম আঙুলের ডগায় ২৮.৫ সেন্টিমিটার (১১.২২ ইঞ্চি) পরিমাপ করা হয়। তিনি পূর্বে জীবিত ব্যক্তির মধ্যে সর্বাধিক লম্বা পায়ের রেকর্ডটি রেখেছিলেন। তার বাম পা ৩৬.৫ সেন্টিমিটার (১ ফিট ২ ইঞ্চি) এবং ডান পা ৩৫.৫ সেন্টিমিটার (১ ফিট ১.৯৮ ইঞ্চি)। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তার পরিবারে পৌঁছালে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কল্পনাও করিনি যে, আমি এই বইটিতে থাকতে পারব, এটা আমার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু এটি এখনো বিস্ময়কর আমার জন্য’।

আজকের নড়াইল
আজকের নড়াইল