শনিবার   ২৪ আগস্ট ২০১৯   ভাদ্র ৮ ১৪২৬   ২২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪০

১১৬

আমাশয় হলে করণীয়

প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারি ২০১৯  

আমাশয় একটি অতিসাধারণ ব্যাধি, যা মানব অন্ত্রে সংক্রমণের মাধ্যমে ঘটে থাকে। সাধারণত, অ্যান্টামিবা হিস্টোলাইটিকা কিংবা সিগেলা গণভুক্ত ব্যাকটেরিয়া মানবদেহের পরিপাকতন্ত্রে সংক্রমণ করে। অন্ত্রের সংশ্লিষ্ট অংশে প্রদাহের সৃষ্টি হয়, পেট ব্যথা করে এবং শ্লেষ্মা, রক্তসহ পাতলা পায়খানা হতে থাকে। আমাশয় হলে পেট কামড়ানোসহ মলের সঙ্গে পিচ্ছিল আম অথবা শ্লেষ্মাযুক্ত রক্ত যায়। আমাশয় দুই ধরনের হয়ে থাকে। যথা- অ্যামিবিক আমাশয় এবং বেসিলারি আমাশয়। এদের সংক্রমণের কারণ ভিন্ন, রোগের লক্ষণ এবং চিকিৎসাও ভিন্ন।

 

অ্যামিবিক আমাশয়: অ্যামিবাঘটিত আমাশয় বড় ছেলেমেয়েদের হয়ে থাকে কিন্তু পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে এর প্রবণতা অত্যন্ত কম। পরিপাকতন্ত্রের বৃহদান্ত্রে অ্যান্টামিবা হিস্টোলাইটিকা নামক পরজীবীর সংক্রমণের ফলে হয়।

লক্ষণ: রোগীর বারবার পাতলা পায়খানা হতে থাকে। মলের সঙ্গে মিউকাস (শ্লেষ্মা ঝিল্লি) বা আম বেশি থাকে। রক্ত থাকলেও কম। সাধারণত ডানদিকের তলপেটে ব্যথা হয়।

বেসিলারি আমাশয়: বেসিলারি আমাশয় সিগেলা নামক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা অন্ত্রের সংক্রমণের কারণে হয়। এ রোগটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক হারে দেখা যায় এবং বহু লোকের মৃত্যুর জন্য এই রোগ দায়ী। বেসিলারি ডিসেন্ট্রি বা আমাশয়ের আরেক নাম শিগেলোসিস। সিগেলা নামে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে এই রোগটি হয়। সিগেলার চারটি প্রজাতির মধ্যে ঝযরমবষষধ ভষবীহবৎর-এর মাধ্যমে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে আমাশয় ছড়ায়। এটি সবচেয়ে বেশি ছড়ায় জীবাণুবাহী আধোয়া হাত দিয়ে। জীবাণুবাহী মাছি ও খাবারের মাধ্যমেও ছড়ায়। মলের সঙ্গে রক্ত বেশি যায় বলে এটিকে একসময় রক্ত আমাশয় বলা হতো।

লক্ষণ: হঠাৎ করে ঘন ঘন পাতলা পায়খানা শুরু হয় এবং চিকিৎসা নিতে দেরি হলে দিনে ১০ বারের বেশি মলত্যাগ করতে হয়। আক্রান্ত রোগীর পেটে ব্যথা করতে থাকে। রোগীর শরীরে খিঁচুনি হতে পারে। রোগীর গায়ের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। জ¦র হয় ১০২-১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠে যেতে পারে। অনেকবার মলত্যাগের কারণে শরীরে পানিস্বল্পতা ও ইলেকট্রোলাইট ঘাটতি দেখা দেয়। শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।

চিকিৎসা: দুই ধরনের আমাশয়তে খাওয়ার স্যালাইন গ্রহণ ও বিশ্রাম নিতে হবে। প্রচুর পরিমাণ তরল খাবার যেমন ভালো ঠাণ্ডা পানি, চিনির শরবত, ডাবের পানি, ফলের রস ইত্যাদি খেতে হবে। অতিরিক্ত পাতলা পায়খানা হলে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে।

দীর্ঘস্থায়ী আমাশয়: অ্যামিবিক আমাশয় এবং বেসিলারি আমাশয় উভয়ই স্বল্পমেয়াদি আমাশয়। সাধারণভাবে ‘স্বল্পমেয়াদি আমাশয়’ বলতে এক সপ্তাহের কম সময় ধরে আমাশয় থাকা। স্বল্পমেয়াদি আমাশয় অল্প সময়ের চিকিৎসায় সম্পূর্ণ সেরে যায়। দীর্ঘস্থায়ী আমাশয় বা ক্রনিক ডিসেন্ট্রি ভালো করার জন অনেক দিনের চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

দীর্ঘদিনের আমাশয় বিভিন্ন জটিলতার জন্ম দেয়। দীর্ঘস্থায়ী আমাশয়ের ক্ষেত্রে মলধার সর্বদায় ফাঁক হয়ে থাকে। আমাশয় নিয়ে ভয়ের কোনো কারণ নেই। সঠিক চিকিৎসা এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শে আমাশয় রোগ সম্পূর্ণ প্রতিকার করা সম্ভব।

ডা. আবেদা কুদসী নওশী

এমবিবিএস (রাবি)

সি-কার্ড (ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন)

মেডিকেল অফিসার (কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল)

প্রভাষক, ট্রমা সেন্টার মেডিকেল ইনস্টিটিউট

আজকের নড়াইল
আজকের নড়াইল